কোটচাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল সুইপারের হাতে অ্যাম্বুলেন্স, জিম্মি রোগীরা

অপুদাস,ঝিনাইদহ:

কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে চলছে চরম প্রতারণা।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত  জনিত কুমার দাস সুইপার  হিসাবে পদায়ন থাকলেও অদৃশ্য কারণে তিনি এখন কোটচাঁদপুর সরকারী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অসহায় মানুষদের জিম্মি করে চালক জনিত কুমার ও তার ছেলে শুভ মিলে গড়ে তুলেছেন  এক অভিনব প্রতারণার ফাঁদ।  ভুয়া ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে তারা প্রচার করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে  ‘প্রাইভেট’ হিসেবে ব্যবহার করছেন দিনের পর দিন। জরুরি মুহূর্তে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা দুস্থ ও সাধারণ রোগীরা সরকারি রেটে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চাইলে চালক জনিত নানা টালবাহানা করেন। কখনো গাড়ি নষ্ট, আবার কখনো বাইরে থাকার অজুহাত দেখিয়ে সেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। সুকৌশলে রোগীর স্বজনদের হাতে ধরিয়ে দেন ছেলে এম.ডি শুভর নামে তৈরি ভুয়া ভিজিটিং কার্ড। উপায় না পেয়ে মুমূর্ষু রোগীদের স্বজনরা চড়া ভাড়ার চুক্তিতে সেই একই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সেই গন্তব্যে যেতে বাধ্য হোন। আর এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব জেনেও অদৃশ্য কারণে নিরব ভুমিকা পালক করেন। অভিযোগ আছে হাসপাতালের বড় বাবুর যোগসাজসে এমন অনিয়মের সিন্ডিকেট তৈরী হয়েছে। ভোক্তভোগী সলেমানপুর গ্রামের গৌতম ঘোষ জানান গত ২৯ তারিখে স্ত্রী তীথি ঘোষকে যশোরে নিতে জরুরী অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজন হলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে এ যশোর যায়, ড্রাইভার জানান আমরা দুজনে আসলাম ২৫শত টাকা ভাড়া দেন, আমি ২২শত টাকা দিয়েছি। টাকা গ্রহনের কোন রশিদ তারা দেয়নি বলে তিনি জানান। বিদ্যাধরপুর গ্রামের মাসুদ জানান আমার দাদী আনোয়ারাকে নিয়ে যশোর গিয়েছিলাম কোন রশিদ ছাড়াই ড্রাইভার ১৮শত টাকা ভাড়া নিয়েছে। মেইন বাস্ট্যান্ড পাড়ার মাহফুজ বলেন আমার বাবা আঃ মজিদ কে নিয়ে কোটচাঁদপুর হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স করে যশোর গিয়েছিলাম ড্রাইভার কোন রশিদ ছাড়াই ১৮শত টাকা ভাড়া নিয়েছে। কোটচাঁদপুর হাসপাতাল থেকে সরকারী অ্যাম্বুলেন্স যোগে যশোরের প্রকৃত ভাড়া ৯০০ টাকা হলেও ড্রাইভার জনিত ও তার ছেলে শুভর অশুভ চক্রান্তে সর্বশান্ত হচ্ছে বহু রোগীর পরিবার। এছাড়াও অ্যাম্বুলেন্স এর তেল চুরির বিস্তর অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে।  জনিত কুৃমারের সাথে কথা বললে তিনি জানান আমি ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিসে পরিচ্ছনতা কর্মী হিসাবে কর্মরত আছি, আমি গাড়ি চালাতে পারি সেই জন্য কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  আমাকে ভারপ্রাপ্ত চালক হিসাবে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে।  তার ছেলে শুভ জানান আমাদের নিজস্ব কোন অ্যাম্বুলেন্স নেই। আমি হেলপার হিসাবে বাবার সাথেই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে থাকি। কোন লোকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন।  কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন কোটচাঁদপুর থেকে যশোরের প্রকৃত ভাড়া ৯শত টাকা যা রশিদ দিয়ে গ্রহন করার কথা। আমাদের হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার না থাকার কারণে ওনাকে ড্রাইভার হিসাবে সিভিল সার্জন অফিস থেকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি জানি উনি প্রকৃত ড্রাইভার না, কোন পদে আছেন তাও আমি সঠিক জানিনা। তবে অনিয়মের বিষয়ে তথ্য পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা.কামরুজ্জামান বলেন জনিত কুমার দাস মূলত আমার অফিসের পরিচ্ছনতা কর্মী তার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার কারণে কোটচাঁদপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম পেলে ওখান থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *