বড়লেখায় আলোচিত ভারতীয় ১৪টি মহিষের ৫টি উদ্ধার ৯টি উধাও

অলিউর রহমান,বড়লেখা (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা ১৪টি মহিষের মধ্যে পাঁচটি উদ্ধার করেছে বিজিবি। তবে বিজিবির তত্ত্বাবধানে এবং স্হানীয় বিএনপি নেতার জিম্মায় থাকা অবস্থায় বাকি নয়টি মহিষ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় মামলা করেছে বিজিবি।
শনিবার (২২ আগস্ট) দায়ের করা মামলায় উপজেলার গৌরনগর গ্রামের হিফজুর রহমান, তাঁর ভাই লুৎফুর রহমান এবং চান্দগ্রাম বাজারের ইজারাদার আলাল উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা ১৪টি মহিষ গৌরনগর এলাকায় হিফজুর রহমান ও লুৎফুর রহমানের বাড়িতে রাখা হয়েছে। পরে বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালিয়ে গোয়ালঘর থেকে ৭টি গাভি মহিষ ও সাতটি বাছুর উদ্ধার করে।
এ সময় মহিষগুলোর মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে হিফজুর ও লুৎফুর দাবি করেন, ৮ আগস্ট চান্দগ্রাম গরুর বাজার থেকে রানু দাস ও আব্দুল মুকিমের কাছ থেকে তাঁরা মহিষগুলো কিনেছেন। এর স্বপক্ষে তাঁরা বিজিবিকে দুটি ক্রয়রসিদ দেখান।
তবে রসিদ যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, এতে থাকা তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। রসিদে বিক্রেতা হিসেবে উল্লেখ থাকা রানু দাস ও আব্দুল মুকিম বিজিবিকে জানান, রসিদে থাকা স্বাক্ষর তাঁদের নয়। বাজারের ইজারাদার আলাল উদ্দিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তিনি রসিদ সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজিবি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মহিষগুলো স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের জিম্মায় রেখে দেয়। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত মহিষগুলো অন্যত্র সরিয়ে না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিজিবির অনুসন্ধানে হিফজুর রহমান ও লুৎফুর রহমানের মালিকানা দাবির কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর শুক্রবার বিকেলে মহিষ উদ্ধারে ফের অভিযান চালায় বিজিবি ও পুলিশ। তবে বাড়িতে গিয়ে কোনো মহিষ পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির পাশের একটি জমি থেকে পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বিজিবির তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় বাকি নয়টি মহিষ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান শনিবার রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *