বিশেষ প্রতিনিধি:
মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মো. পলাশ আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), খুলনা। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
পিবিআই খুলনা সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলার লবণচরা থানার ঠিকরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আলাউল কবির খাঁ স্থানীয় পবিত্র মজুমদারের মাধ্যমে মো. পলাশ আলীর সঙ্গে পরিচিত হন। পলাশ আলাউল কবিরের ছয় নিকটাত্মীয়কে মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রত্যেককে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য অগ্রিম অর্থ দাবি করেন তিনি।
পলাশের কথায় বিশ্বাস করে আলাউল কবির বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাকে মোট ১৭ লাখ টাকা দেন। পরবর্তীতে পলাশ চাকরিপ্রার্থীদের ঢাকায় নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করান এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তাদের বিদেশে পাঠানো হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন অভিযুক্ত পলাশ।
একপর্যায়ে গত ১৫ আগস্ট পলাশ আলাউল কবিরের বাড়িতে গিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আর মালয়েশিয়ায় পাঠাতে পারবেন না এবং গ্রহণ করা টাকাও ফেরত দিতে পারবেন না বলে জানান। পরে আলাউল কবির বাদী হয়ে পলাশ আলীসহ দুজনের বিরুদ্ধে লবণচরা থানায় প্রতারণার মামলা করেন। গত ২৩ আগস্ট দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৫; এতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই সদর দপ্তরের সিদ্ধান্তক্রমে খুলনা জেলা পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই (নিঃ) মো. হাবিবুর রহমানকে দায়িত্ব দেন।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারনামীয় আসামি পলাশ আলীর অবস্থান শনাক্ত করেন।
এরপর পিবিআই খুলনার একটি দল গত ২৮ আগস্ট রাত ১টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ সদর থানার গোলপুকুরপাড় এলাকায় কর অঞ্চল ভবনের সামনে অভিযান চালিয়ে পলাশ আলীকে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ আলী অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্ত ও আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, উচ্চ বেতনে মালয়েশিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পলাশ আলী বাদীপক্ষের কাছ থেকে তার মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হিসাবে মোট ১৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে চাকরিপ্রার্থীদের মালয়েশিয়ায় না পাঠিয়ে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের সুযোগ নিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি সাধারণ মানুষকে বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।
মামলায় এজাহারনামীয় অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্তও চলমান রয়েছে।