মাদক, চোরাচালান, অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান
জীবননগর অফিস:
মাদক, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার ও সীমান্ত দিয়ে পুশইন প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে মতবিনিময় সভা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে জীবননগর উপজেলার মাধবখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ধোপাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এ সভার আয়োজন করে। এতে সীমান্ত এলাকার তিন শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিজিবির কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণেরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। সীমান্তের যেকোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি বা পুশইনের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত বিজিবিকে তথ্য দেওয়ার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের ওপারে বসবাসকারী আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই সাপেক্ষে বিজিবিকে অবহিত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বশীলভাবে নজরদারি ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধভাবে সার পাচারের সম্ভাবনার বিষয়েও স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়। অবৈধভাবে সার পাচারের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদক, স্বর্ণ, গরু, মানুষ ও শিশু পাচারসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ সময় সীমান্ত নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়দের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করা, শূন্যলাইন অতিক্রম না করা, সন্ধ্যার পর শূন্যলাইনে অযথা যাতায়াত বা অবস্থান না করা, শূন্যলাইন বরাবর গবাদিপশু না চড়ানো এবং সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে ঘাস কাটতে না যাওয়া।
এ ছাড়া ভারতীয় জমি অবৈধভাবে লিজ নেওয়া বা চাষ না করা, প্রয়োজন ছাড়া সীমান্ত এলাকায় না যাওয়া এবং মানব পাচারকারী ও চোরাকারবারীদের বিষয়ে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়; সীমান্তবর্তী জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাদক, চোরাচালান, মানব পাচার ও অবৈধ সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সভায় ভবিষ্যতেও সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা আয়োজনের কথা জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার ও সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান, মাধবখালী কোম্পানি কমান্ডার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং তিন শতাধিক সীমান্তবাসী উপস্থিত ছিলেন।