আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার বেদে পল্লীতে মাদক বেচাকেনা ও ড্রাগন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে বস্তি থেকে ড্রাগন চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেন স্থানীয়রা। ওই ব্যক্তির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মিজান নামে এক ব্যক্তিকে ধরে আনা হয়, যিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেদে পল্লীর একাংশের বাসিন্দা ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বিরোধের জেরে সোমবার রাতে বেদে পল্লীর একাংশের সরদার মনিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম হোসেন লাভলু ও রেজা ডাকাত তাঁদের লোকজন নিয়ে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে হামলার অভিযোগে শামীম হোসেন, ইমাম হোসেন লাভলুসহ কয়েকজনকে আটক করে মারধর করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।