আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
সাংবাদিকতার জীবনে চার দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন যশোরের কেশবপুরের সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসাইন। ১৯৮৪ সালের ৬ নভেম্বর আহমেদ জামান সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘কিশোর বাংলা’ পত্রিকায় তাঁর প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয়। ‘কেশবপুরে মধু খেলাঘরের উদ্যোগে জেলহত্যা দিবস পালিত’ শিরোনামের সেই সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর সাংবাদিকতার পথচলা। ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর সেই প্রথম সংবাদ প্রকাশের ৪২ বছর পূর্ণ হলো।
১৯৮৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের মধু খেলাঘরে তবলা বাদন শিখতে গিয়ে সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। খেলাঘরে নিয়মিত আসত সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা পত্রিকা। সেখান থেকেই সংবাদ লেখার অনুপ্রেরণা পান তিনি।
কলেজে ভর্তির পর দৈনিক সংবাদের কেশবপুর প্রতিনিধি সামসুজ্জামানের অনুপ্রেরণায় খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বাঞ্চলের কেশবপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর প্রথম আইডি কার্ড হাতে পান তিনি। সেই দিনের অনুভূতি আজও তাঁর স্মৃতিতে অমলিন।
এরপর ১৯৮৬ সালে ঢাকার দৈনিক নব অভিযান, ১৯৮৮ সালে দৈনিক পূর্বাঞ্চলের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক বাংলা বাণী, প্রথম আলো, মানবজমিন, সমকাল ও অবজারভারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পান।
১৯৯৯ সাল থেকে যশোরের প্রথম রঙিন দৈনিক গ্রামের কাগজে কাজ করার সুবাদে সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিনের সান্নিধ্য লাভ করেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় সাংবাদিকতার বুনিয়াদি থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাসহ প্রায় দেড় ডজন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ সময়টিকে নিজের সাংবাদিকতা জীবনের সুবর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাংবাদিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে আহমদুল কবির স্মৃতি স্বর্ণপদক এবং ২০১৯ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া প্রায় আড়াই ডজন পদক, পুরস্কার ও স্মারক সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মোতাহার হোসাইন। কেশবপুর প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রায় ১০ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সমিতি বোর্ডের সভাপতি ও সচিব এবং কেশবপুর পাবলিক লাইব্রেরির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
নিজের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণে মোতাহার হোসাইন বলেন, সাংবাদিকতা জীবনে প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখেছেন, ভবিষ্যতেও আমৃত্যু শিখতে চান। এ দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য মানুষের সহযোগিতা, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা পেয়েছেন। বাস্তব ঘটনা তুলে ধরতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তাঁদের কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতাকে তিনি ভালোবেসেছেন, শ্রদ্ধা করেছেন এবং পেশা হিসেবে উপভোগ করেছেন। কখনো এ মহান পেশাকে অপবিত্র করেননি। জীবনের বাকি সময়েও সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশায় থাকতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সাংবাদিকতার ৪২ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় অর্জিত অভিজ্ঞতা, সম্মাননা ও স্মৃতির জন্য সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।