কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন বাতিল

বিশেষ প্রতিনিধি:-

জাতীয় পার্টির একাংশের (আনিস মাহমুদ) এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও পতিত শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর না থাকা, ঋণ খেলাপের তথ্য গোপন এবং হলফনামায় সম্পদের সঠিক বিবরণ না দেওয়াসহ একাধিক অনিয়মের কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

রোববার (৪ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।

মুজিবুল হক চুন্নু কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত আটটি মামলায় অভিযুক্ত থাকায় জনরোষের আশঙ্কায় তিনি নিজে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত হননি। তার প্রস্তাবক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, মুজিবুল হক চুন্নুর হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রে দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর ছিল না। পাশাপাশি রূপালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং হলফনামায় সম্পদের সঠিক হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি। এসব কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

কিশোরগঞ্জের তিন আসনে যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফল

যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের মোট ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ১৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের ক্ষেত্রে শতকরা একভাগ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত স্বাক্ষরে গরমিল, হলফনামায় ত্রুটি, সম্পদের তথ্য ও মামলার তথ্য গোপন এবং ঋণ খেলাপের অভিযোগ উঠে এসেছে।

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর):-

এ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। বিএনপির চার বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন— রেজাউল করিম খান চুন্নু, রুহুল হোসাইন ও খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের মনোনয়ন বাতিল হয় এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত তথ্য সঠিক না থাকায়।
তবে বিএনপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাসুদ হিলালীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া–কটিয়াদী):-

এ আসনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অপরদিকে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল):-

এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা মুজিবুল হক চুন্নু, গণতন্ত্রী পার্টির দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের), এনপিপি, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জ-৪, ৫ ও ৬ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। ওই দিন ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
সবমিলিয়ে দুই দিনে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে ৬১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ৩৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলাকালে জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান,মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *