শহিদুল ইসলাম,মহেশপুর সংবাদদাতা:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের মহেশপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় নারী সমাবেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহেশপুর হাইস্কুল মাঠ ও সংলগ্ন অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নারী কর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার-ফেস্টুনসহ সমাবেশস্থলে জড়ো হন। সংক্ষিপ্ত র্যালি শেষে প্রধান সমাবেশ শুরু হয়। আয়োজকদের দাবি, প্রায় অর্ধলক্ষাধিক নারী এতে অংশগ্রহণ করেন; তবে উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ–৩ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নারীদের সচেতন, সংগঠিত ও সক্রিয় ভূমিকা সময়ের দাবি।” তিনি ন্যায়, সততা ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দলের নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. আব্দুল আলীম, জেলা সেক্রেটারি মো. আব্দুল আওয়াল, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাই এবং উপজেলা আমির ফারুক আহমেদ। তারা বক্তব্যে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মূল্যবোধভিত্তিক সুশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
নারী নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মাসুমা খাতুন, ফিরোজা ইয়াসমিন বিউটি, জাকসুর সাবেক এজিএস আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা, ইয়াসমিন আরা ও রেহেনা খাতুন। বক্তারা নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা, পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে নারীর ভূমিকা জোরদার এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমির মো. ফারুক আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ।
কর্মসূচি উপলক্ষে সমাবেশস্থল ও আশপাশ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় এবং শেষে অংশগ্রহণকারীরা শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বড় পরিসরের এ ধরনের সমাবেশ দলগুলোর সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও সমর্থকসংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। মহেশপুরের এ নারী সমাবেশ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।