ডিএমপি পুলিশের পরিচয়ে জীবননগর হাসাদহ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিকট ফোন: ছেলের কণ্ঠ ক্লোন করে  ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও হাসাদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম (৫৪) অজ্ঞাত এক প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে ২৫ হাজার খুইয়েছেন। ঘটনার ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান,রোববার(০৮ ফেব্রুয়ারি)বিকাল ৪.১৫ মিনিটে ০১৯৬১-০২৯৩৯৫ নম্বর থেকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ০১৯১৪-৬৬৮৩০২-এ একটি ফোন আসে। ফোনকারী ব্যক্তি নিজেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য পরিচয় দিয়ে জানান, তার ছেলে তানভীর হুসাইন এক মাদকাসক্ত বন্ধুর সাথে পুলিশের হাতে আটক করা হয়েছে। আরও বলা হয়,ছেলের বন্ধুকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে  আমার বাড়ী ও তানভীরের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায় হওয়ায় মানবিক কারণে তাকে ‘দায়িত্ব নিয়ে রক্ষা’ করা হয়েছে। এজন্য ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে,অন্যথায় তাকেও একই ভাবে ছয় মাসের জেল দেয়া হবে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে ফোনকারী ব্যক্তি তানভীর হুসাইনের সাথে কথা বলার সুযোগ দেন। মোবাইলের ওপার থেকে কথা বলা ব্যক্তির কণ্ঠ ছিল হুবহু তার ছেলের মতো,যা শুনে তিনি পুরোপুরি আশ্বস্ত হন। পরবর্তীতে ছেলেকে রক্ষা করার তাগিদে একই দিন বিকাল ৪.৪৫ মিনিটে হাসাদহ বাজারে অবস্থান করা কালে প্রতারকের দেয়া বিকাশ নম্বর ০১৯৬১-০৩৯৩০০-এ ২৫ হাজার টাকা প্রেরন করেন।

তবে একই দিন বিকাল ৫.১৯ মিনিটে সন্দেহবশত তিনি ছেলের রুমমেট আনিসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করেন। আনিসুর রহমান জানান,তানভীর তার সাথে রয়েছে এবং কোথাও আটক হয়নি। এরপর সরাসরি ছেলের সাথে কথা বললে তানভীর জানায়,সে কোনো জায়গায় ধরা পড়েনি এবং এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এতে প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম নিশ্চিত হন যে,তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে প্রতারকের ব্যবহৃত ০১৯৬১-০২৯৩৯৫ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগীর দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারকরা তার ছেলের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল বা ক্লোন করে তাকে বিভ্রান্ত করেছে এবং কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার এমন কৌশল নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল বলছেন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ফোন করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কণ্ঠস্বর ক্লোন করে প্রতারণা—এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে এবং সন্দেহজনক কোনো লেনদেনের আগে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হতে হবে।

ভুক্তভোগী আবুল কাশেম বলেন,ঘটনার ব্যাপারে থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে পুলিশের নিকট আমার দাবি তারা যেন,বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *