বিশেষ প্রতিনিধি:-
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে দামুড়হুদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠে এ জনসভা শুরু হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের পর থেকেই উপজেলা শহরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেডিয়াম মাঠে এসে সমবেত হয়। দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আয়োজকদের দাবি,হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দামুড়হুদায় এত বড় রাজনৈতিক সমাবেশ খুব কমই দেখা গেছে।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে এলাকার মানুষ পরিবর্তন চায়, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়।” তিনি দাবি করেন, দেশে দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক সংকট চলছে এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা সম্ভব। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে দল অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সমালোচনা করেন। এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে কি না—তা জানতে সংশ্লিষ্ট দলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “যার ভোট সে নিজে প্রয়োগ করবে—এ সচেতনতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।” বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনুসহ স্থানীয় নেতারা। উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোজাম্মেল হকের ছেলে মিথুন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকরা জানান, সমাবেশ ও গণমিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগ কার্যক্রমে সরব হয়ে উঠছে প্রার্থীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের সমাবেশ ভোটের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ফল নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর।