ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৫১ দলের মধ্যে ৪২টি শূন্য, বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা

বিশেষ প্রতিনিধি:-
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৪২টি দল একটি আসনও অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ২৯৯টি আসনের ফলাফলের ভিত্তিতে মাত্র ৯টি দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। ফলাফলে দেখা যায়, ভোটের মূল লড়াই সীমিত কয়েকটি দলের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ২১০টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলটি সরকার গঠনের সাংবিধানিক অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এককভাবে এত বড় বিজয় দলটির রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংসদে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকায় দলটি আইন প্রণয়ন ও নীতিগত বিতর্কে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, এক আসন করে পেয়েছে পাঁচটি দল— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিস। ফলে সংসদে সীমিত হলেও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বজায় থাকছে।
অন্যদিকে, সাবেক প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন জি এম কাদের, এবার একটি আসনও পায়নি। সাম্প্রতিক কয়েকটি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দলটির জন্য এটি বড় ধরনের ধাক্কা।
একইভাবে হাসানুল হক ইনু-এর নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এবং আ স ম আবদুর রব-এর নেতৃত্বাধীন জাসদ (রব) কোনো আসন পায়নি। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ধর্মভিত্তিক ও ঐতিহ্যবাহী আরও কয়েকটি দল— জাকের পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও নেজামে ইসলাম পার্টি—কোনো আসন লাভে ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়া গণফোরাম, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম)-ও শূন্য হাতে ফিরেছে।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি আসন পেয়েছিল, এবার কোনো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। একইভাবে ২০-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-ও কোনো আসন পায়নি।
সামগ্রিক ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, এবারের নির্বাচনে ভোটের বড় অংশ দুটি প্রধান শক্তির মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জামায়াতে ইসলামীর শক্ত অবস্থান আগামী সংসদের কার্যক্রম, বিরোধী রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *