নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান-এর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকগুলোতে কূটনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দাশো শেরিং তোবগে। ভুটানের এই সরকারপ্রধান বিশেষ আমন্ত্রণে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকা সফর করছেন। এছাড়া তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনচি, পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী ড. নালিন্দা জয়াতিষা পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো ও কানেকটিভিটি উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে আগত প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে উন্নয়ন অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আঞ্চলিক শান্তি, বাণিজ্যিক সংযোগ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যৌথ উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং পৃথক বার্তায় তাকে অভিনন্দন জানান এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই একাধিক দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই ধারাবাহিক বৈঠক নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার বার্তা স্পষ্ট করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতামূলক পরিবেশ জোরদার এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্ক বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা মনে করেন