জামায়াত সমর্থক নিহতের ঘটনায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
জীবননগর অফিস:-
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, একজনের মৃত্যু এবং পরবর্তী মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর জীবননগর উপজেলা শাখা। দলটির পক্ষ থেকে মামলাটি‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার(৪ মার্চ) দুপুর ১২ টায় জীবননগর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা বলেন,উপজেলার সুটিয়া গ্রামের হাফিজুর রহমান (৫০) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় তারা গভীর শোক প্রকাশ করছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন,ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অপরাধী যেই হোক,তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী,জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সুটিয়া স্কুল মাঠে হাসাদহ গ্রামের জসিম উদ্দীনের ছেলে হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেক দলের আহবায়ক মেহেদী হাসানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হাসাদহ বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকের কথা থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
দলটির দাবি,ওই দিন সন্ধ্যার দিকে মেহেদীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। আহতদের দেখতে এবং থানায় অভিযোগ দিতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হাফিজুর রহমানকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর পর দায়ের করা মামলায় জীবননগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন ময়েনসহ কয়েকজন নেতাকে আসামি করা হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। বিএনপির দাবি,মামলায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের কেউ কেউ ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন,রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এজাহারে নাম যুক্ত করা হয়েছে। তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা কামনা করে বলেন,নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য শুভ নয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা আরও দাবি করেন,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।তাদের ভাষ্য অনুযায়ী,জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা ও দামুড়হুদা উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন,জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহজান আলী,সাংগাঠনিক সম্পাদক আলতাব হোসেন,জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজান কবীর,বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মুন্সী আবুল কাশেম,আবুল বাসার,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম,সরোয়ার হোসেন প্রমুখ।
জীবননগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ ও মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমানে হাসাদাহ ইউনিয়নে সংঘর্ষ ও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
উপজেলা বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জানায়,তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে এবং যেকোনো ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।