ঢাকা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ))-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, শ্রম বিষয়ক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রোববার রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন লেবার অ্যাটাশে লীনা খান, এগ্রি অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, কমার্শিয়াল অ্যাটাশে পল ফ্রস্ট, পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অফিসার শ্রীনি সীতারাম এবং শ্রম বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাইফুজ্জামান মেহরাব।
তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকে শুল্ক সুবিধা নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শুল্ক সুবিধা বা বিশেষ ব্যবস্থার বিষয়ে স্পষ্টীকরণের অনুরোধ জানানো হয়। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারের সুযোগও বাড়বে।
এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, বিষয়টি বর্তমানে United States Trade Representative (ইউএসটিআর)-এর মাধ্যমে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক এবং বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের একটি বিশেষ সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে তুলা রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুল্ক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন শুল্ক বা ট্যারিফ পরিবর্তনের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টিতে আনেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব শিগগিরই এ জটিলতার সমাধান হবে এবং শুল্ক নীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান
বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতের চাহিদা পূরণে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, স্বল্পমেয়াদে এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যদি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করতে পারে, তাহলে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।
শ্রম আইন ও সংস্কার প্রসঙ্গ
বৈঠকে শ্রম আইন ও প্রস্তাবিত নতুন শ্রম অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রম খাতের সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, প্রস্তাবিত শ্রম অধ্যাদেশে ১৪৫টি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। শিল্পখাতের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কিছু বিষয়ে আরও স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্যোক্তাদের জন্য ভিসা সুবিধা প্রসঙ্গ
বৈঠকে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ভিসা বন্ড শিথিল করা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে করে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।