ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং অধিক ইবাদতের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ নগরীর বাড়েরা মাদানী নগরে অবস্থিত খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৯০০ মুসল্লি ইতিকাফে বসেছেন। বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে গভীর ধর্মীয় আবহ ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
মসজিদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীরও উল্লেখযোগ্য অংশ এবারের ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। ইতিকাফ পালনকারীদের জন্য ইফতার, সেহরি, বিশ্রাম ও নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সার্বক্ষণিকভাবে মুসল্লিদের সেবায় নিয়োজিত থেকে ইতিকাফের পরিবেশকে সুশৃঙ্খল রাখতে কাজ করছেন।
ইতিকাফে অংশ নেওয়া স্থানীয় মুসল্লি আব্দুল করিম বলেন, “রমজানের শেষ দশক মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সময়। এ সময় ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে থেকে আল্লাহর ইবাদতে সময় কাটানোর জন্য আমরা এখানে ইতিকাফে বসেছি। একসঙ্গে এত সংখ্যক মুসল্লিকে ইতিকাফ করতে দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
আরেক মুসল্লি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “এখানে ইতিকাফের পরিবেশ খুবই সুন্দর ও সুশৃঙ্খল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, তারাবি, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার ও দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সময় কাটছে। আয়োজকদের ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিকাফে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা মসজিদে অবস্থান করে নিয়মিত নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, তাসবিহ ও বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় আলোচনা ও নসিহতের আয়োজনও করা হচ্ছে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা ইবাদতের পাশাপাশি ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারেন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ আরও জানান, মুসল্লিদের সুবিধার্থে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অজু ও গোসলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকদের একটি টিম নিরলসভাবে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদটি বর্তমানে ময়মনসিংহ অঞ্চলে আধ্যাত্মিক সাধনা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর পবিত্র রমজানের শেষ দশকে এখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ইতিকাফ কর্মসূচির পরিধি ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এলাকাজুড়ে ধর্মীয় চর্চা ও আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ আরও জোরদার করছে।