জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী যুবক আহত

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছোড়া গুলিতে আজাদ হোসেন (৩০) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার নতুনপাড়া সীমান্তের ৬৫/১ এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আজাদ হোসেন জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি বদর উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ হোসেনসহ আরও ২-৩ জন ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা মাদকদ্রব্য আনতে সীমান্ত পার হওয়ার উদ্দেশ্যে শূন্যরেখা অতিক্রম করে তারকাঁটা কাটার সময় বিএসএফের একটি টহল দল তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে আজাদ হোসেন শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা.তারেক জুনায়েদ জানান,বৃহস্পতিবার রাতে আজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলির আঘাত নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজাদ হোসেন বলেন,সীমান্ত এলাকায় গেলে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পাই। পরে বুঝতে পারি আমি গুলিবিদ্ধ হয়েছি। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন,একজন ব্যক্তি সীমান্ত এলাকায় ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য আমার কাছে নেই।

ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজিবি ইউনিটের (মহেশপুর ৫৮ বিজিবি) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *