জীবননগর সীমান্তে মানবপাচার চেষ্টা ব্যর্থ: ৪ শিশুসহ ৮ জন উদ্ধার দুই দালাল গ্রেফতার

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় ৪ শিশুসহ ৮ জন বাংলাদেশী নাগরিককে উদ্ধার করেছেন পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জীবননগর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সোলায়মান শেখ এবং পরিদর্শক (অপারেশন) আতিয়ার রহমান।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দুই দালাল হলেন ইসরাফিল (৩২) ও উজ্জ্বল হোসেন (৪০)। তারা জীবননগর উপজেলার বেনীপুর এলাকার বাসিন্দা। এ চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রাকিব মোল্লা, নাইস মিনা খানম, লিমন মোল্লা, সাথী খাতুনসহ মোট ৮ জন, যার মধ্যে ৪ জন শিশু। তাদের মধ্যে কয়েকজন পূর্বে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করতেন এবং প্রায় ৭-৮ মাস আগে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুনরায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা একটি দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দালালরা ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বিভিন্ন কারখানায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় চুক্তি করে। যশোরের মনিরামপুর এলাকার এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তাদের জীবননগরের স্থানীয় দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করানো হয়।

রোববার(৫ মার্চ) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দালালরা ভুক্তভোগীদের সীমান্তবর্তী একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ভারতে পার করে দেওয়ার কথা থাকলেও পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় রাকিব মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করে দালালরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে জীবননগর অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ এর নেতৃত্বে থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে দুই দালালকে গ্রেফতার করেন এবং ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে। আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ঘটনায় জীবননগর থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে,এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে এবং এর পেছনে বড় কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন,মানবপাচার ও অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং কোনো প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা না করার পরামর্শ দেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *