কোটচাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও ধর্মীয় স্থানে জোরপূর্বক খুঁটি স্থাপন

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
​ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার হাড়ডাঙ্গা বিদ্যাধরপুর গ্রামে এক হিন্দু পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও তাদের ধর্মীয় আচার পালনের জায়গায় জোরপূর্বক বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী খুদিবালা (৫৫) বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​প্রাপ্ত তথ্যমতে, হাড়ডাঙ্গা বিদ্যাধরপুর (আবাসন পাড়া) এলাকার মৃত লক্ষণ বাবু রায়ের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারি জমিতে বসবাস করে আসছেন। তাদের বসতঘরের সামনে থাকা প্রায় ৬ শতক খালি জমি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণে ব্যবহার করে আসছিলেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত(৫ এপ্রিল)২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে প্রতিবেশী মোঃ আবুল কাশেম (৫০) ও মোঃ নবি (৬০) গভীর নলকূপের সংযোগ দেওয়ার অজুহাতে সেই ধর্মীয় ব্যবহারের জমিতে জোরপূর্বক বৈদ্যুতিক পিলার স্থাপন শুরু করেন।

​খুদিবালার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে সুশান্ত বাবু রায় (৪৫) এই অবৈধ কাজে বাধা দিলে শুরু হয় তাণ্ডব। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২নং বিবাদী মোঃ নবির প্ররোচনায় ১নং বিবাদী মোঃ আবুল কাশেম প্রতিবন্ধী সুশান্তকে থাপ্পড় মেরে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। সন্তানের ওপর এই হামলা দেখে মা খুদিবালা এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাকেও মারধরের চেষ্টা করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে সরে যায়।

​কোটচাঁদপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত অভিযো’ গ সূত্রে জানা যায়:
​”বিবাদীরা আমাদের প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ব্যবহারের জায়গায় পিলার স্থাপন করেছে। আমার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তারা নির্দয়ভাবে মারধর করেছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

​এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় আচার পালনের স্থানে এভাবে জোরপূর্বক খুঁটি বসানো এবং একজন অসহায় প্রতিবন্ধীর ওপর হাত তোলা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কোটচাঁদপুর মডেল থানা অফিসার ইন চার্জ  মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *