আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ পৌরসভার নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে নগর সমন্বয় কমিটির (TLCC) ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রতীন্দ্রনাথ রায়।সভায় ঝিনাইদহ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ নাগরিক সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে রতীন্দ্রনাথ রায় বলেন, “পৌরসভা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়; এটি নাগরিকদের প্রতিষ্ঠান। জনগণকে ভোগান্তি মুক্ত সেবা প্রদান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নাগরিক সেবা প্রদানে কোনো প্রকার স্থবিরতা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। আমরা চাই একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য ঝিনাইদহ শহর গড়ে তুলতে।”
সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাক্তার কামরুজ্জামান সোহেল জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পৌরসভার ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। এ সময় পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ ও প্রকৌশলী মুন্সি আবু জাফর চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এনএম শাহজালাল, জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান এবং জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিরোজা। বক্তারা শহরের ট্রাফিক জ্যাম ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আসিফ কাজল এবং জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বাবুল শহরের আইন-শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জোরালো মত দেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান শেখর, সাইফুল ইসলাম, তহুরা খাতুন এবং সাবেক কাউন্সিলর বুলবুলি খাতুন তাদের বক্তব্যে জনগণের মৌলিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এলজিইডির প্রকৌশলী শাহাবুল আলম এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী আহসানুল কবির অবকাঠামোগত উন্নয়নে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা একমত পোষণ করেন যে, সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করলে ঝিনাইদহ পৌরসভার নাগরিকদের সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে। সভা শেষে শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং সকল নাগরিকের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।