অপুদাস,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:-
বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি, প্রয়াত কৃষকনেতা মাস্টার ইমান আলীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে|
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এ উপলক্ষে সকাল ৯টায় মল্লিকপুর গ্রামে তাঁর সমাধিস্থলে পুষ্পমাল্য অর্পণ, নীরবতা পালন ও শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে| পরে সকাল ১০টায় মল্লিকপুর মোড়ে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে| বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন| সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে|
উল্লেখ্য, মাস্টার ইমান আলী ১৯৩০ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার কালীগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে এক কবিরাজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন| তাঁর পিতা কবিরাজ ওয়ারেশ আলী এবং মাতা আছিয়া খাতুন| ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন| যশোর জিলা স্কুলে অধ্যয়নকালে ব্রিটিশবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন, যা পরবর্তীতে তাঁকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে আরও দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত করে|
পরবর্তীতে যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন তিনি| তেভাগা আন্দোলন, কৃষক সংগ্রাম এবং গণমানুষের অধিকারের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন| কর্মজীবনে পাকিস্তান সিভিল সাপ্লাই বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দিলেও রাজনৈতিক মতাদর্শ ও প্রগতিশীল অবস্থানের কারণে ১৯৫৪ সালে সরকারি চাকরি হারান|
এরপর শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন মাস্টার ইমান আলী| গৃহশিক্ষকতা দিয়ে শুরু করে কারবালা ও খড়কী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন| পরে ১৯৭০ সালে মাহমুদুর রহমান হাই স্কুল প্রতিষ্ঠায় অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৯০ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন|

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কৃষক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন| কমরেড আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি এবং মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি গণমানুষের অধিকারের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন| ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় কেশবপুরে এক জনসভায় সাম্প্রদায়িক শক্তির হামলারও শিকার হন তিনি|
কৃষক আন্দোলন, শিক্ষকতা এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাঁর অবদান আজও এলাকার মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন|