মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযানে ৬৬৪ বোতল স্কাফ-ফেন্সিডিল উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় স্কাফ সিরাপ ও ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬। উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৬৬৪ বোতল মাদকদ্রব্য, যার মধ্যে ৩৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ এবং ২৯২ বোতল ফেন্সিডিল রয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল মহেশপুর উপজেলার চারাতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় একটি নির্দিষ্ট স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে মো. মুজাহিদ (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার চারাতলা গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে।
র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাদক সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও মাদক সরবরাহ চক্রকে শনাক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
র‍্যাব-৬, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. ইমামীম মুবীন সরকার সুমন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে র‍্যাব নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ তাকে মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নিয়মিত মামলার আসামি ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, পাশাপাশি হত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র‍্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, মহেশপুর সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে মাদক চোরাচালান ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও পুরো নেটওয়ার্ক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *