বিশেষ প্রতিনিধি:
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে তিনি গণঅভ্যুত্থান হিসেবে দেখেন না। তাঁর দাবি, আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলেই প্রতীয়মান হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর পল্লী নিবাসে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জি এম কাদের বলেন, দেশে এখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা, মতপ্রকাশের
সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁর ভাষায়, “জুলাই আন্দোলনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তাই সেই আন্দোলনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে ন্যায়বিচার, সমতা ও নিরাপত্তাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে ভবিষ্যতে নতুন গণ-আন্দোলনের প্রয়োজন হতে পারে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে সমন্বয় করে একতরফা নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, সেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখনো ‘মব সংস্কৃতি’র মাধ্যমে ভিন্নমতের মানুষের ওপর নির্যাতন ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকার এবং প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো বিভিন্নভাবে জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আবারও শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরতে চায়। উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতীয় পার্টিই কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শোকসভায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা এবং জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি গঠনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন দলের নেতারা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাঁর রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।