আবু সাঈদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর সড়কের কুশোকুড়ী মাঠে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক ও সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় অবশেষে আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত দলের সর্দারসহ তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লুন্ঠিত টাকা ও মোবাইল ফোন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত দলের সর্দার রাজবাড়ী জেলার পাংশা এলাকার আলতাফ ওরফে আলতাফ ডাকাত, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত সুরত আলী ওরফে সুরত ডাকাত এবং চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত স্থানীয় ডাকাত এজেন্ট আরিফুল। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই রাতে সাফদারপুর-কোটচাঁদপুর সড়কের কুশোকুড়ী মাঠ সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর খেজুর গাছ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে সংঘবদ্ধ মুখোশধারী ডাকাত দল। তারা পথচলতি মোটরসাইকেল আরোহী ও ট্রাক চালকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় গ্রামীণ ব্যাংক মুজিবনগর শাখার ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ডাকাতরা। পরবর্তীতে টহল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান (পিপিএম) ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রথম দফায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে সুরত ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাজবাড়ীর পাংশা থেকে গ্রেফতার করা হয় ডাকাত সর্দার আলতাফকে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ডাকাতদের স্থানীয় তথ্যদাতা ও এজেন্ট আরিফুলকে।
গ্রেফতারকৃত সুরত ও আলতাফ বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনাসহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপরদিকে গ্রেফতারকৃত আরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, ওই চক্রের বাকি সদস্য ও পলাতকদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কুশোকুড়ী মাঠ এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।