প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স না থাকার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, আগেই জরিমানা ও কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
বিশেষ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় লোকমান হোসেন (প্রা.) হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক লুৎফর রহমানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকা এবং সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘনের দায়ে রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর কুমার মণ্ডল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেডিকেল প্র্যাকটিস ও বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরিজ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১৩(২) ধারায় এ সাজা দেন। এর আগে গত ২১ অক্টোবর একই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। পাশাপাশি ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর শনিবার দুপুরে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার কলেজপাড়ায় অবস্থিত লোকমান হোসেন (প্রা.) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয় সোনিয়া খাতুনের। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের শাকদারচর গ্রামের রবি হোসেনের স্ত্রী। তাঁর অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক ডা. নিলুফা ইয়াসমিন।
অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর সোনিয়া খাতুনের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনার পরদিন রোববার দুপুরে লোকমান হোসেন (প্রা.) হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ সাঈদ এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর কুমার মণ্ডল। অভিযানে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের বিধান লঙ্ঘনের দায়ে হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, জনবল এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জটিলতার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক নির্ধারণে চিকিৎসাসংক্রান্ত তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
প্রশাসনের এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবার মান, প্রয়োজনীয় জনবল এবং সরকারি বিধিবিধান প্রতিপালনের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।