ইয়াবা,গাঁজা ও চোলাইমদ উদ্ধার; ৮ জনের কারাদণ্ড, একজনের বিরুদ্ধে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার:
চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট নয়জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিচারিক আদালত। অপরদিকে, ২০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধারের ঘটনায় একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগর এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএনসি সূত্র জানায়, জীবননগর বাজারে কাজল নামের এক ব্যক্তির আমের আড়তের সামনে অভিযান চালিয়ে কিরণ মণ্ডল (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর হাতে থাকা বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে একটি প্লাস্টিকের কন্টেইনারে রাখা ২০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক এস এম শাহিন পারভেজ বাদী হয়ে জীবননগর থানায় নিয়মিত মামলা করেন। তবে মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় পৃথক অভিযানে সিঅ্যান্ডবি পাড়ার ইবাদুল্লাহ শেখ সাকিব (২৬) নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং হকপাড়ার নয়ন (৩৫) নামের অপর এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে আরও ছয়জনকে আটক করা হয়।
আটক অন্য ছয়জন হলেন জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর উত্তরপাড়ার মুরাদ হোসেন (৪৫), গঙ্গাদাসপুরের বাবলুর রহমান (৪৭), পোস্ট অফিসপাড়ার ওয়াসিম আলী (৪৫), মহানগর উত্তরপাড়ার হেরাজ উদ্দিন (৩০), লক্ষ্মীপুর ভাঙা ব্রিজ এলাকার ছমির খাঁ (৪৫) এবং পুরাতন লক্ষ্মীপুর খাঁপাড়ার আহসান হাবিব (১৯)।
আটজনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মোমতাজ মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় ইবাদুল্লাহ শেখ সাকিবকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং নয়নকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
এ ছাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত মুরাদ হোসেন, বাবলুর রহমান, ওয়াসিম আলী, হেরাজ উদ্দিন, ছমির খাঁ ও আহসান হাবিবকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ হিসাবে ছয়জনের দুই মাস করে, একজনের এক মাস এবং অপর একজনের তিন মাসের কারাদণ্ড হয়েছে। অর্থাৎ, আটজনকে মোট বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চোলাইমদসহ আটক কিরণ মণ্ডলের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত
চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম অভিযানের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এ অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের ধরন ও পরিমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কারবার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক সরবরাহ ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের সুযোগ আরও জোরদার হবে।