আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
বয়স মাত্র ছয় বছর। অথচ জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত একবারও ভাত খায়নি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার শিশু মো. হুজাইফা। ভাতের পরিবর্তে বিস্কুট, নুডলস, পাউরুটি, পাকা কলা, ভাজাপোড়া ও পটেটো চিপস খেয়েই কাটছে তার দিন। এমনকি কোমল পানীয় সেভেন আপ ও স্প্রাইটও রয়েছে তার খাবারের তালিকায়। শিশুটির ব্যতিক্রমী খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা কৌতূহল।
হুজাইফা কোটচাঁদপুর উপজেলার ৫ নম্বর এলাঙ্গী ইউনিয়নের গুড়পাড়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা কবির হোসেন ও মা নাছিমা খাতুন। তিন সন্তান নিয়ে তাদের সংসার।
হুজাইফার মা নাছিমা খাতুন জানান, তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে হুজাইফা সবার ছোট। জন্মের পর থেকে কখনো ভাত খায়নি সে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও ভাতের প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই। বরং বিস্কুট, নুডলস, পাউরুটি, পাকা কলা ও ভাজাপোড়া খাবারই তার বেশি পছন্দ। এসব খাবার দিয়েই ক্ষুধা নিবারণ করে সে।
শিশুটিকে দেখতে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ-স্বাভাবিক মনে হলেও তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ বিষয়ে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক ডা. আব্দুল জলিল বলেন, “হুজাইফার পরিবারের সদস্যদের আমি অনেকবার পরামর্শ দিয়েছি, শিশুটিকে যেন একজন ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরিবর্তে কবিরাজের কাছে যেতেন। চিকিৎসকের চেয়ে কবিরাজের ওপরই তাদের বিশ্বাস বেশি। এভাবে চলতে থাকলে শিশুটির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাসের কারণ জানা কঠিন। তাই আমি বারবার পরিবারকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
স্থানীয়দের কেউ কেউ শিশুটির এমন খাদ্যাভ্যাসকে অলৌকিক বা জিনের প্রভাব বলে মনে করলেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। চিকিৎসকদের মতে, কোনো শিশু দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কিছু খাবার ছাড়া অন্য খাবার খেতে না চাইলে এর পেছনে শারীরিক, পুষ্টিগত কিংবা খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণ থাকতে পারে। বিষয়টি অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শিশু বয়সে সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই হুজাইফার খাদ্যাভ্যাসের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না তা যাচাই এবং স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ছয় বছর ধরে ভাত না খাওয়ার বিষয়টি এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করলেও হুজাইফার পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া, তাদের সন্তান যেন সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।