ঝিনাইদহে ট্রাক ভিড়িয়ে  খামারে দুর্ধর্ষ চুরি ২০ লাখ টাকার ৬ গরু উধাও

রাতের আঁধারে তালা ভেঙে ট্রাকে তুলে নিয়ে গেল চোর চক্র, দিশেহারা খামারি

 ্সিরাজুল ইসলাম,শৈলকুপা (ঝিনাইদহ):

ঝিনাইদহে পরিকল্পিতভাবে ট্রাক নিয়ে একটি গরুর খামারে প্রবেশ করে ছয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে খামারের তালা ভেঙে একে একে গরুগুলো ট্রাকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারি। একই সঙ্গে এলাকায় গরু চুরি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কয়ারগাছি গ্রামে খামারি তারিফুল ইসলামের খামারে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে একটি ট্রাক নিয়ে চোরচক্র খামারের সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে খামারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তালা ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এরপর খামারে থাকা ছয়টি গরু একে একে ট্রাকে তুলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে খামারে গিয়ে গরু দেখতে না পেয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন মালিক তারিফুল ইসলাম। পরে তিনি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। একসঙ্গে ছয়টি গরু চুরি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
খামারি তারিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাতের আঁধারে ট্রাক নিয়ে এসে আমার খামারের তালা ভেঙে ছয়টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকা। এই খামারের ওপর নির্ভর করেই আমার জীবিকা চলে। একসঙ্গে এতগুলো গরু হারিয়ে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, খামার থেকে গরু চুরির বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চোরচক্রকে শনাক্ত করা এবং চুরি হওয়া গরু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ট্রাক নিয়ে এসে এতগুলো গরু চুরির ঘটনায় চোরচক্রের পূর্বপরিকল্পনা ও এলাকায় চলাচল সম্পর্কে ধারণা থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রাতের আঁধারে এমন ঘটনায় খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় রাতের টহল ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, চুরি হওয়া গরুগুলো দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব না হলে খামারির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *