চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিঃশ্বাস থমকে গেল এক পরিবার। কক্সবাজারের সোনালী বালুকায় স্বপ্নের খোঁজে যাত্রা শুরু হয়েছিল—কিন্তু মুহূর্তেই তা এক গভীর শোকে রূপান্তরিত হলো।
এক ভয়াবহ সংঘর্ষে ১০ জন প্রাণ হারায়, যার মধ্যে আছে বাবা দিলীপ কুমার (৪০), তার স্ত্রী সাধনা রানী (৩৫) এবং তাদের একমাত্র কন্যা, ছয় বছরের আরাধ্য, যে আজ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শীতল আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
দুর্ঘটনার রহস্যময় ঘটনা
বুধবার ভোরে, কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে, লোহাগাড়ার পিচঢালা সড়কে চালু থাকা যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের বিধ্বংসী সংঘর্ষে পরিস্থিতি এক মুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, নিয়ন্ত্রণ হারানো দ্রুতগতির বাসটি বিপরীতদিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটিকে তীব্র আঘাত করে।
যেখানে একই পরিবারের আরেক সদস্যও নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
আরাধ্যের জীবনের অমায়িক পরীক্ষা
এই ভয়ের্তি দুর্ঘটনায়, পরিবারের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য হচ্ছেন ক্ষুদ্র আরাধ্য। মা-বাবার অনুপস্থিতিতে, তার ছোট্ট মন এখনো বিশ্বাস করে যে হয়তো একসময় বাবা-মা ফিরে আসবেন—তবে সেই আশার আলো আজ নিভে গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, আরাধ্যের মাথায় গুরুতর আঘাত, শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক চোট লেগেছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা এই নিরীহ শিশুটির জন্য ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
পরিবার ও সমাজে শোকের ছায়া
দিলীপ কুমারের পরিবারের জন্য এই মৃত্যু শুধুমাত্র এক শোকের সূচনা। তাঁর বৃদ্ধ পিতা, দুলাল বিশ্বাস, যাঁর জীবনের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তাঁর পুত্র, আজ শোকের ভারে ভেঙে পড়েছেন।
পরিবারের বাকি সদস্য—তিন বিধবা মেয়ের মধ্যে দুজন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছে, আর একের আর্থিক সংকট—পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দিলীপের বাল্যবন্ধু শোভন কুমার কাজলের কণ্ঠ আজ বিষাদের সাথে তুলে ধরে বলেন,
“দিলীপ ছিলেন পরিবারের শক্তিশালী মেরুদণ্ড; তাঁর অকাল বিদায় যেন এক অবিরাম শোকের ধারায় সকলকে ভেসে নিয়ে গেছে।”
সড়ক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের আহ্বান
লোহাগাড়ার সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিরই ফল। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে সড়কে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালনার অভিযোগ তুলছিলেন।
প্রশাসনের তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তীব্র হয়ে উঠেছে, যাতে এধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা আর কখনও ঘটে না।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছে। বিশেষ করে,
এতিম হয়ে যাওয়া শিশুটির পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সমাজসেবী সংস্থা ও স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তার আহ্বান করা হয়েছে।
প্রার্থনা ও মানবতার এক আহ্বান
লোহাগাড়ার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা শুধু এক পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে এক গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।
আজ সকলের মিলিত প্রার্থনা, আশা, ও মানবিক সহানুভূতি—
ছোট্ট আরাধ্য যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির প্রভাব আরেকজন নিরীহ শিশুকে ছুঁতে না পারে।
এই নির্মম বাস্তবতা যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সড়ক নিরাপত্তা ও মানবিক সহানুভূতি কতটা জরুরি।