কালীগঞ্জে ভৈরব নদীর জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নের মুখে

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-

ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নে ভৈরব নদীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক

পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শমসের এবং তার দুই

ভাই শফিকুল শমসের ও তরিকুল শমসের দীর্ঘদিন ধরে নদীর প্রায় অর্ধশত বিঘা জমি দখল করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য চাষাবাদ করছেন।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় অভিযোগ
ঘোপপাড়া ও সাদিকপুর গ্রামের নদীর দুই

পাড়জুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা চাষযোগ্য খেতে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘নদীর জমি’।

অনেকেই বলছেন, এ জমিতে প্রবেশ বা নদীতে নামার সুযোগও নেই সাধারণ মানুষের।

নদীর পাড় ঘেঁষে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে প্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত থাকে।

স্থানীয় কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “নদীতে নামতেই দিচ্ছে না। এমনকি ব্রিজের পাশে দেয়াল দিয়ে পানি নেওয়ার পথও বন্ধ করে দিয়েছে।”

একই অভিযোগ করেন বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম সর্দার। তার ভাষ্য, “নদীর জমি দখলের পাশাপাশি সরকারি জমিতেও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কলেজ স্থাপন, নাম ফলক বসানো, এমনকি নতুন করে দখল প্রক্রিয়াও চলছে।”

ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার কেনা জমির নিচে নদীর অংশ ছিল। সেটি দখল করে শেড নির্মাণ করেছে শফিকুল শমসের।

আদালতের ১৪৪ ধারা থাকা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”

দখলদারদের বক্তব্য ও প্রশাসনের অবস্থান
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রাশেদ শমসেরের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শফিকুল শমসের ‘ছাতা স্থাপন’-এর বিষয়টি স্বীকার করে

বলেন, “এটা স্থায়ী কিছু নয়, চাইলে ভেঙে দেব।” তবে নজরুল ইসলামের জমি দখলের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, “নদীর জায়গায় দখল বা চাষাবাদের সুযোগ নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে

তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি জানান, অচিরেই একটি তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রশাসনের নীরবতা ও উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার দখল বিষয়ে

জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে দখলদারিত্ব দিনদিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

উল্লেখ্য, নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণে সরকারি আইন থাকলেও কার্যকর প্রয়োগের অভাব এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলদারিত্ব এসব সম্পদকে হুমকির মুখে ফেলছে—এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *