বড়াইগ্রামে আপন ছেলের হাতে মাকে হাত-পা বেঁধে হত্যাচেষ্টা, এলাকায় চাঞ্চল্য

গঞ্জেরখবর ডেস্ক:_

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে—আপন ছেলে রশি দিয়ে মায়ের হাত-পা বেঁধে হত্যার চেষ্টা করেছে

বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৮ জুন) বিকাল ৪টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায়

স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. রনি। তিনি নগর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

ঘটনার শিকার রনির মা মোছা. রেহানা বেগম (রিনা) বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় বড়াইগ্রাম

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে পারিবারিক একটি তুচ্ছ

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রনি তার মাকে গরুর রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে।

এ সময় রনির স্ত্রী জান্নাতুল, পিতা আব্দুর রাজ্জাক এবং কাকা মিন্টু হোসেন সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেন। রাজ্জাক ও মিন্টু দুজনেই মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।

মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় রেহানাকে উদ্ধার করেন প্রতিবেশী জিয়ারুল (পিতা জয়নাল আবেদীন)। তিনি জানান, “বাড়ির ভেতর থেকে

চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি রনি তার মাকে বেঁধে পেটাচ্ছে। আমি গিয়ে তার হাত-পা খুলে

দেই এবং আশপাশের লোকজন ও তার বোন রেখা খাতুনের সহযোগিতায় তাকে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

অভিযোগকারীর ভাষ্যমতে, ঘটনার মূল কারণ ছিল দুপুরে রান্না করা মাংস রনিকে না দেওয়া।

রেহানা বলেন, “বিয়ের পর থেকে রনি আলাদা খায়, কিন্তু নানা অজুহাতে সব সময় আমাকে

নির্যাতন করে। তাই আমি মাংস রান্না করে তাদের দেইনি, এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর আক্রমণ চালায়।”

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মারধরের ফলে রেহানার ডান চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুষ্ঠু চিকিৎসা শেষে তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে তীব্র

প্রতিক্রিয়া। স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস্ ওয়ার্ল্ড, নাটোর আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক

ওসমান গনি বলেন,“ছেলে কর্তৃক মায়ের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন ঘৃণিত ও মানবাধিকারের

চরম লঙ্ঘন। এটা শুধু ব্যক্তি নয়, গোটা সমাজের জন্যই লজ্জার বিষয়। আমি প্রশাসনের প্রতি

আহ্বান জানাই, যেন অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *