কালীগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা ও পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ, এলাকায় চরম আতঙ্ক

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্ঠভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামে এক গৃহবধূকে

জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর সংঘবদ্ধ হামলার

অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন রাত ৯টার দিকে অভিযুক্ত রমজান আলী

(৩২) গৃহবধূর বাড়িতে প্রবেশ করে। তিনি গৃহবধূকে একা পেয়ে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন।

ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে রমজান আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর এলাকায় তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে ১

জুলাই আপোষ মীমাংসার চেষ্টা হয়। কিন্তু বিষয়টি মীমাংসার বদলে আরো ভয়াবহ রূপ নেয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আপোষে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত রমজান আলী তাঁর সহযোগী ৯ জন সশস্ত্র

ব্যক্তি ও আরও অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে ৫ জুলাই দুপুরে পুনরায় গৃহবধূর বাড়িতে হামলা চালায়।

তারা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও দেবরকে মারধর করে গুরুতর জখম করে।

একইসঙ্গে ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূ বাদী হয়ে ৯ জনের নাম

উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, তারা চরম

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রতিনিয়ত হুমকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী

হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি।

ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলবে,

তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত রমজান আলী ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন

ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না।

এই ঘটনার পর তাঁরা প্রশাসনের কাছে জোরালো হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, দণ্ডবিধি অনুযায়ী ধর্ষণের চেষ্টা, বাড়িতে

হামলা, লুটপাট এবং মারধরের অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নারী নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করছে সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *