জীবননগর অফিস:-বিজিএমইএ সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেছেন, আমরা যদি নিজেদেরকে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সৈনিক মনে করি।
বেগম খালেদা জিয়ার কর্মী এবং তারেক রহমানের সহকর্মী হিসেবে বিবেচনা করি, তাহলে জনগণের
পাশে থাকতে হবে। জনগণের উপকার করতে পারলে করবেন,কিন্তু কখনো জনগণের অপকার
করবেন না। তিনি বলেন, আমাদের নেতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন— সততা,নিষ্ঠা, কর্মপরিশ্রম ও ইমানদারিতা।
এই চারটি গুণ যদি আমরা হৃদয়ে ধারণ করতে পারি,তাহলে জনগণ আবারও ধানের শীষের প্রতি
আস্থা রাখবে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জীবননগর মুক্তমঞ্চে পৌর বিএনপি ও অঙ্গ
সংগঠন আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, একটি দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের পর ছাত্র-জনতা যখন চূড়ান্তভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে
পড়ে, তখনই ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
আমরা এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে শত নির্যাতন ও নিপীড়নের পরও আমাদের অবস্থান থেকে
সরিনি। দল পরিবর্তন করিনি, ইমান বিক্রি করিনি। আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে
সংগ্রাম করেছি এবং সেই সংগ্রামেরই ফল আজ আমরা হাতে পেয়েছি। 
তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশে দুইজন স্বৈরাচার জন্ম নিয়েছিলেন একজন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ,
যিনি জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন কিন্তু দেশে থাকতে পেরেছিলেন। আরেকজন
শেখ হাসিনা, যিনি জনগণ ও ছাত্র আন্দোলনের চাপে গদি ছাড়তে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে
পালিয়েছেন। ভবিষ্যতে যদি কেউ নতুন করে
ফ্যাসিস্ট হতে চায়, তার পরিণতি হবে আর
ও ভয়াবহ,পালানোর সুযোগও পাবে না।
জনসভায় বক্তৃতাকালে মাহমুদ হাসান খান বাবু নতুন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে বলেন,
“নতুন প্রজন্ম এখন শিক্ষিত, পুরোনো প্রজন্ম
অভিজ্ঞ। মানুষ বুঝে গেছে মিথ্যা কথা বলা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া রাজনীতির জায়গায় আর টিকবে না।
ভোটের বিনিময়ে কেউ জান্নাত পায় না,বেহেশতও পায় না। ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে মানুষকে
প্রতারিত করা যাবে না। তিনি আরও যোগ
করেন,ভোট দিয়ে বেহেশত পাওয়া যায় না সেটা ইসলামের শিক্ষা নয়।
আমরা চাই, সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ একসাথে থেকে দেশ গড়ুক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকুক।
আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,যদি আমরা জনগণের
ভালোবাসা অর্জন করতে পারি, তাহলে জনগণ অবশ্যই ধানের শীষে ভোট দেবে।
এজন্য প্রয়োজন সততা, নিষ্ঠা ও জনগণের পাশে থাকা। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর এবং
সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সাধারণ
সম্পাদক সামসুজ্জামান ডাবলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,পৌর বিএনপির সিনিয়র
সহসভাপতি তাজুল ইসলাম,সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি,সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দীন ঠান্ডু।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন,পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হযরত আলী সরকার, সদস্য সচিব মনির
হোসেন,স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরসাফ হোসেন, সদস্যসচিব সুমন বিশ্বাস,কৃষক দলের
আহ্বায়ক ইউনুচ আলী, সদস্যসচিব নাজমুল সবুর,
মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন,পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কিরণ হাসনাত রাসেল
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিমন,ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জীবননগর উপজেলা সভাপতি রমেন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সাগর বিশ্বাস।
বক্তারা বলেন,বাংলাদেশের রাজনীতিতে
পরিবর্তনের সময় এসেছে।জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনই হবে বিএনপির প্রধান শক্তি।
দেশের প্রতিটি কর্মী যদি সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকে তবে আগামীর
রাজনীতি হবে জিয়ার আদর্শে পরিচালিত, জনগণের কল্যাণকামী এক রাজনীতি।