ড, ইউনুস সরকারের অধীনেই হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন –ব্যারিস্টার কাজল

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঝিনাইদহ-৩ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার রুহুল

কুদ্দুস কাজল বলেছেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক আইনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন

আয়োজনের সুযোগ নেই।কারণ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন করে ইতালি, ইসরাইল ও বেলজিয়ামসহ

বিশ্বের বহু উন্নত দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যে সরকারের পতন হয়েছে। তাছাড়া পিআর

পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সমাজের অনেক খারাপ মানুষ আইন প্রণেতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ড, ইউনুস সরকারের অধীনেই আগামী ফেব্রুয়ারিতেই হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন(১৮ অক্টোবর) শনিবার

বেলা ১১ টার সময় কোটচাঁদপুরের পৌর পাঠাগারে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায়

তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, জামায়াত তাদের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পিআর

পদ্ধতির দাবিতে কর্মসূচি পালন করলেও এটা তাদের নির্বাচনী কৌশল। শেষ পর্যন্ত তারাও বিদ্যমান আইনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত

করেন। ব্যারিস্টার কাজল বলেন, আও’মী লীগের কার্যক্রম স্থগিত ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে আইন

অনুযায়ী রিভিউ করার সুযোগ রয়েছে। তবে সেটা বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল মহেশপুর ও

কোটচাঁদপুরের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরে বলেন, এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও

অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর অঞ্চল গড়ে তুলতে চাই।

উন্নয়ন শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণ নয়, এটি মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।

কাজল জানান, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন তার মধ্যে ‘মহেশপুর সীমান্ত

এলাকায় শিক্ষার প্রসার, কোটচাঁদপুরে খেলা দেখার স্টুডিয়াম ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা এবং দত্তনগর কৃষি ফার্ম ও বলুহর মৎস্য প্রজেক্টকে

গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার সুযোগ নাই। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার সাথে কাজ করার

অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো বিনির্মাণে বিএনপি ভাবপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১

দফা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার জন্য দলীয় নেতা কর্মীকে আহবান জানান ।

ব্যারিস্টার কাজল বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপির

সাবেক সংসদ সদস্য মাস্টার শহীদুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ার পর এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন।

কিন্তু ২০০৮ সালের পর উন্নয়নের ধারা থেমে গেছে। আমি নির্বাচিত হলে আবারও উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনব। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায়

আসলে আগস্ট বিপ্লবে অংশীজনদের নিয়ে বিশেষ করে যারা হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছে সেই

বিপ্লবীদের নিয়ে সরকার গঠন করবে বিএনপি। তিনি বলেন বিএনপি সব সময় বলে আসছে যে সবাইকে

নিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করবেন। এটা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কমিটমেন্ট।

তিনি জানান, মহেশপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর

এবং পরে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। দীর্ঘদিন আইন পেশায় কাজের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে বাংলাদেশের লোক ভোট দিতে পারেনি। তারা নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছেন।

প্রশাসনে ফ্যাসিস্টদের দোসর থাকলেও ১৭ বছর

ধরে নির্যাতিত রাজনৈতিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় কোটচাঁদপুর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক সহ বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *