জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সন্তোষপুর পশ্চিমপাড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের নাম বাবুল আক্তার (৩০)। তিনি স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক জামাত আলীর ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাবুল আক্তার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বুধবার সকালে তিনি স্বাভাবিকভাবেই বাড়িতে কাজকর্ম করেন। তবে বিকেলে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকার সময় ঘরের আড়ার সাথে তিনি ফাঁস নেন। পরে তার স্ত্রী ঘরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ছুটে এসে তাকে মৃত অবস্থায় পান।
নিহতের বাবা জামাত আলী বলেন,
আমার ছেলে বহুদিন মানসিকভাবে অসুস্থ। অনেক চিকিৎসা করিয়েও তাকে পুরোপুরি সুস্থ করা যায়নি। এর আগেও সে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। মাঝে মাঝে আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে যেত। আজ বিকেলে এমন ঘটনা ঘটাবে—আমরা কেউই বুঝতে পারিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুলের মানসিক অসুস্থতার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করতেন। বাবুলের একটি ৮ বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে, আর তার স্ত্রী বর্তমানে ৮ মাসের অন্ত:সত্ত্বা।
উথলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সাত্তার ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান,বাবুল আক্তার দীর্ঘদিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পরিবার তাকে বিভিন্নভাবে চিকিৎসা করিয়েছে, কিন্তু তেমন উন্নতি হয়নি। মানসিক সমস্যা থেকেই তার এমন করুণ পরিণতি।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রিপন কুমার দাস বলেন,ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।