বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুধু নেতৃত্ব, আন্দোলন বা ঘটনাপ্রবাহ নয়-মানবিকতা, আত্মত্যাগ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্পও বহুদিন আলোচনায় থাকে। তেমনই একটি ব্যতিক্রমী নাম ফাতেমা, যিনি দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
দলের ভেতর ও দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ‘ফাতেমা আপা’ নামে পরিচিত এই নারী শুধু একজন সহকারী নন—বরং পরিবারের একজন সদস্যের মতোই জায়গা করে নিয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময়ের সহচর্যের পর বেগম জিয়া তাঁকে মেয়ের মতো স্নেহ করেন বলেও রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত আছে।
জেল অভিজ্ঞতা: পৃথিবীর বিরল দৃষ্টান্ত:
২০১৮ সালে যখন তৎকালীন সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করে, তখন একটি মানবিক ঘটনার জন্ম হয়। আদালতে ফাতেমা স্বেচ্ছায় আবেদন জানান—
“তিনি যেখানেই থাকবেন, তাঁর সেবা করার দায়িত্ব আমার। আমাকে তাঁর সঙ্গেই থাকতে দিন।”
আবেদনের পর আদালতের নির্দেশেই তিনি বেগম জিয়ার সঙ্গে কারাগারে থাকার সুযোগ পান।
এভাবে দীর্ঘ ৭৭৮ দিন জেলখানায় থেকেছেন তিনি। রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল, যেখানে কোন সহকারী শুধুমাত্র মানবিক বন্ধন ও দায়িত্ববোধ থেকে স্বেচ্ছায় এত দীর্ঘ সময় কারাবন্দী অবস্থায় থেকেছেন।
এই সময়টিতে বেগম জিয়ার প্রতিদিনের সেবা, স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও শারীরিক সহায়তায় তিনি ছিলেন সব সময়ের সঙ্গী। বিনিময়ে তিনি কোনো আর্থিক দাবি করেননি—শুধু একজন মানুষের প্রতি অনুরাগ, দায়িত্ব ও ভালবাসাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
বর্তমান অবস্থায়ও পাশে ফাতেমা:-
বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও দৈনন্দিন পরিচর্যার বড় অংশটিই সামলাচ্ছেন ফাতেমা। হাসপাতাল, বাসা কিংবা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট যেকোনো পরিবেশ—সবখানেই তিনি নিবিড়ভাবে তাঁর পাশে থাকছেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, ফাতেমার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ দলের ইতিহাসে বিশেষ স্থান পাওয়ার যোগ্য। তাঁদের ভাষ্য-“ফাতেমা আপার ঋণ বিএনপি কোনোদিনই শোধ করতে পারবে না।”
ইতিহাসে জায়গা করে নেবে তাঁর নাম:-
রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে মানবিকতার এমন নজির বাংলাদেশে খুবই কম দেখা যায়। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন,বোন ফাতেমার ত্যাগ ও সেবার ইতিহাস শুধু বিএনপির দলিলেই নয়, মানবিক সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেশের ইতিহাসেও স্থান পাবে।