নারী প্রার্থীর অসম্মানের প্রতিবাদে সাহসী অবস্থান: ঝিনাইদহে দৃষ্টান্ত গড়লেন মেহেদী হাসান রনি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে ঝিনাইদহ জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সকল প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত বৈঠকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়। বৈঠক চলাকালে ঝিনাইদহ-৪ আসনের গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী খনিমা খানম নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে সভাকক্ষে উপস্থিত হলে বসার জন্য কোনো চেয়ার না পেয়ে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এ সময় খনিমা খানম জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চেয়ার না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক তার দেরিতে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ওই মুহূর্তে সভাকক্ষে উপস্থিত চারটি আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের অধিকাংশই নীরব ভূমিকা পালন করেন।
তবে একজন নারী প্রার্থীর সঙ্গে এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মেহেদী হাসান রনি। তিনি নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান এবং গণফোরাম প্রার্থী খনিমা খানমকে সম্মানের সঙ্গে তার চেয়ারে বসার আহ্বান জানান।
মো. মেহেদী হাসান রনির এই মানবিক ও সাহসী অবস্থানের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজসহ বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও বিষয়টির প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে উপস্থিত প্রার্থীদের সম্মিলিত চাপের মুখে জেলা প্রশাসন গণফোরাম প্রার্থী খনিমা খানমের জন্য বসার চেয়ারের ব্যবস্থা করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি প্রশাসনিক সভায় নারী প্রার্থীর প্রতি সম্মান ও সমান আচরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। সে জায়গায় মো. মেহেদী হাসান রনি যে সাহসী ও নৈতিক অবস্থান নিয়েছেন, তা শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধেরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এ বিষয়ে উপস্থিত অনেকেই মন্তব্য করেন, “যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান” হিসেবে মো. মেহেদী হাসান রনি আবারও প্রমাণ করেছেন যে রাজনীতি মানেই শুধু ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়—এটি ন্যায়, সম্মান ও প্রতিবাদেরও নাম।
ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের প্রতিবাদী ও মানবিক নেতৃত্ব ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *