আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অন্যতম সেরা প্রতিভা ঝিনাইদহের অনন্য গাঙ্গলীর আকস্মিক আত্মহননে স্তব্ধ গোটা এলাকা।
মেধার আলোয় যে ঘর আলোকিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজার পাড়ায় নিজ বাসভবনে আজ শুধুই অন্ধকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অন্যতম সেরা প্রতিভা, অনন্য গাঙ্গলীর আকস্মিক আত্মহননে স্তব্ধ গোটা এলাকা। বাবা-মায়ের স্বপ্ন আর সহপাঠীদের প্রিয় মুখটি এখন চিরদিনের জন্য স্মৃতি।
শনিবার ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজার পাড়ায় নিজ বাসভবনে গলায় ফাঁস দিয়ে জীবনের ইতি টানেন অনন্য। তিনি কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পি কে গাঙ্গলী চ্যার্টাজি এবং কোটচাঁদপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাধারানী গাঙ্গলীর বড় ছেলে।
অনন্য ও তার ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গলী দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এক পরিবারে দুই দুই জন ঢাবিয়ান-যাদের নিয়ে গর্ব করত পুরো কোটচাঁদপুর।
শোকাতুর বাবা প্রফেসর পি কে গাঙ্গলী জানিয়েছেন, অনন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই মানসিক যন্ত্রণার কাছে হার মেনেই তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অপরদিকে অনন্যের মৃত্যুতে তার সহপাঠী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাকরুদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে শোকের মাতম। একজন “দেশসেরা” মেধাবীর এভাবে চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং গোটা দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসাদউজ্জামান জানান,আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”