উৎসবমুখর ভোটকেন্দ্র গড়তে হ্যাঁ ও ধানের শীষে ভোট চাইলেন বাবু খান

জীবননগর বাঁকায় ইউনিয়নে প্রথম দিনের প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থীর পথসভায় উৎসুক জনতার ভিড়
জীবননগর অফিস:-
বিএনপি মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেছেন, ভোটকেন্দ্র কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়-ভোটকেন্দ্র হচ্ছে গণতান্ত্রিক চর্চার মৌলিক স্থান। এখানে যেন কোনো ভয়ভীতি,আতঙ্ক কিংবা সহিংসতার পরিবেশ না থাকে। ভোটকেন্দ্র হবে উৎসবমুখর,শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি ) বিকেল ৩টা থেকে রাত পর্যন্ত জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের মোক্তারপুর, মিনাজপুর, আলীপুর, বাঁকাগ্রামসহ মোট ১৩টি স্থানে ধারাবাহিক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  প্রতিটি পথসভায় উৎসুক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 
পথসভায় মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, দীর্ঘদিন পর বাঁকা ইউনিয়নে আসার সুযোগ হলো। নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা এই ইউনিয়ন দিয়েই শুরু করেছি মানুষের কথা শোনার জন্য এবং আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও লক্ষ্য সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে,যা একটি ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন। এ নির্বাচনে দুটি ব্যালট থাকবে একটি ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-এর পক্ষে এবং আরেকটি প্রতীকের ব্যালট। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে এবং ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি।
তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে দল-মত নির্বিশেষে দলে দলে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ যে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সেই অধিকার ফিরে পাবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশগ্রহণ করবে।
বিএনপি প্রার্থী আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতি উন্নয়নমুখী রাজনীতি। আমরা অবকাঠামো উন্নয়ন, পারস্পরিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের কথা বলি। অথচ একটি পক্ষ নির্বাচনকে ঘিরে এমন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যেন ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র রণক্ষেত্রে পরিণত হবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ভোটকেন্দ্র হচ্ছে সেই জায়গা, যেখানে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, যারা পরবর্তী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই—পাঁচ বছরে যদি নির্বাচিত নেতৃত্ব মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ পরবর্তী নির্বাচনে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে। বিএনপি কখনো একদলীয় শাসনের পক্ষে নয়। আমরা চাই বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত হোক।
মাহমুদ হাসান খান বাবু আরও বলেন, আমরা শহিদ হওয়ার কথা তখনই বলি, যখন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে। ভিন্ন কোনো দেশ যদি আমাদের ওপর আক্রমণ করে, তখন দল-মত-ধর্ম-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমরা সবাই দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত থাকব। কিন্তু ভোটের দিন কখনোই সহিংসতার কথা হতে পারে না।
পথসভায় বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান, বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল খালেক, সহসভাপতি খাদেমুল হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বুদো, জীবননগর পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল শিকদার, বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যানের জ্যেষ্ঠ পুত্র হান্নান বিশ্বাস, হালিম শিকদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পথসভাগুলোতে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং তারা শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *