স্ত্রীর প্রতারণার শিকার হয়ে দুধ দিয়ে গোসল,আর বিয়ে করবেনা বলে কানে ধরে উঠবস

আহম্মেদ সাগর,সদর প্রতিনিধি,ঝিনাইদহ:-

স্ত্রীকে সর্বস্ব দিয়েও ধরে রাখতে পারলেন না ঝিনাইদহের রাজ্জাক মন্ডল। ভয়াবহ প্রতারণার শোকে বিহ্বল হয়ে ৪০কেজি গরুর দুধ দিয়ে নিজ বাড়ির উঠানে গোসল করলেন তিনি। যা  এলাকায় ফেলেছে চাঞ্চল্য । গ্রামের মানুষের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারাও হতভম্ব। ইজিবাইক চালক ৪২ বছরের রাজ্জাক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের কোলা গ্রামে বাসিন্দা ।

জানা যায়, ভালোবেসে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন রাজ্জাক মন্ডল । কিন্তু সেই সুখ তার বেশী দিন সয়নি। ৪ বছর আগে ইজিবাইকচালক রাজ্জাকের সাথে বিয়ে হয় পাশের ইউনিয়নের বাদপুকুরিয়া গ্রামের আক্তার হোসেনের মেয়ে রিক্তা খাতুনের। দরিদ্র হলেও সোনার গহনা,নগদ টাকা এবং নিজের গরু দিয়েও এ সংসার তিনি টেকাতে পারলেন না। রাজ্জাক মন্ডল প্রথম স্ত্রী থাকার পরও ২০২২ সালে রিক্তা নামে এই নারীর সাথে প্রেম করে বিয়ে করে। বিবাহের পর থেকেই দ্বিতীয়  স্ত্রীর ভালোবাসা পেতে সর্বস্ব দেয় রাজ্জাক। দ্বিতীয়  স্ত্রীকে নিয়ে একটু ভালো থাকতে পরিবার থেকে আলাদা বসবাসও শুরু করেন। অবশেষে ৪ বছর পর দ্বিতীয় স্ত্রী রিক্তা শর্ত দেন তার সাথে সংসার করতে হলে পিতা, মাতা, সন্তান ও প্রথম স্ত্রীসহ ভাই বোন সবার সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে না। সেই শর্ত না মানায় স্ত্রী তালাক দেন। সেই ক্ষোভের কারণেই তিনি এক মন দুধ দিয়ে গোসল করেন।

প্রথম স্ত্রী সালেহা পারভিন জানান, আমাদের ৩ সন্তার রয়েছে। তারপরও সে রিক্তাকে ৪ বছর আগে বিয়ে করে। দুই সংসারই চালাতো সে। টাকা পয়সা, গহনা এমনকি গোয়ালের গরু পর্যন্ত দিয়েছে সংসার করতে। কিন্তু লাভের লাভ শেষপর্যন্ত তালাক ।

রাজ্জাক মন্ডলের মা জহুরা খাতুন জানান, আমার ছেলেকে কাজি ডেকে এনে তালাক দিয়েছে রিক্তা (ছোট বউ)।

প্রতিবেশি গঞ্জের মিয়া জানান, তারা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দুধ দিয়ে গোসল এলাকাই এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম। আমরা বিভিন্ন জায়গায় এমন দেখি। তবে এমন ঘটনা এলকায় চাঞ্চল্যের সৃস্টি করেছে ।

রাজ্জাক মন্ডল জানান,আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতারনার স্বীকার হয়েছি। সে আমাকে তালাক দিয়েছে। তার দাবী ছিল, মা ও প্রথম স্ত্রী এবং সন্তানদের দেখাশুনা করা যাবে না। তাদের সাথে সম্পর্কও রাখা যাবে না। তাকে নিয়ে আলাদা হয়েছি তার পিড়াপিড়িতে। সবই দিয়েছি, কিন্তু মা-সন্তানদের সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে না এমন প্রস্তাব আমি মানতে পারিনি। তাই সে আমাকে তালাক দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *