জীবননগরে তেল ফসলের আবাদ বৃদ্ধিতে কারিগরি মাঠ দিবস তিন ফসলি চাষে জোর

জীবননগর অফিস:-

দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ ও আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরিষাসহ তেল জাতীয় ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে জীবননগরে কারিগরি মাঠ দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পৌরসভা ব্লকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জীবননগরের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. পাভেল রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহ আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন আলী।
আয়োজকরা জানান, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত জাত নির্বাচন ও ফসল বিন্যাস সম্পর্কে ধারণা দিতে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার সীমান্ত,মনোহরপুর, উথলী, কেডিকে ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন প্রগতিশীল কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি মো. আলমগীর হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন,প্রকল্প ভিত্তিক ‘সরিষা–বোরো–রোপা আমন’ ফসল বিন্যাস অনুসরণ করলে একই জমিতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে দুই ফসলের পর পতিত পড়ে থাকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিকে তিন ফসলি আওতায় আনা গেলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন,কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী স্বল্পজীবনকালীন ও উচ্চফলনশীল ধান ও সরিষার জাত নির্বাচন,সময়মতো বপন,সুষম সার প্রয়োগ, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন,দেশেভোজ্য তেলের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয়ভাবে সরিষার উৎপাদন বাড়াতে পারলে তেলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর তেল ব্যবহারের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সরিষার উন্নত জাত, রোগবালাই দমন, ফলন বৃদ্ধির কৌশল এবং ফসল কাটার পর সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে কারিগরি দিকনির্দেশনা দেন। কৃষকদের পক্ষে বাস্তবায়নাধীন কৃষক মো. খাসিয়ার রহমান ও কৃষাণী স্বপ্না তাদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং সময়মতো পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মাঠ দিবস শেষে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তিগত লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনের মাধ্যমে সরিষা চাষের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এ ধরনের উদ্যোগ তেল ফসলের আবাদ সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং জীবননগরে তিন ফসলি জমির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *