কালীগঞ্জে বৈঠক-পরবর্তী ঘটনায় চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে মামলা: গ্রেপ্তার প্রত্যাহারের দাবি

অপুদাস,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন-এ গতকাল রাশেদ খানের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের এক বৈঠককে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম মিয়া, মতি মিয়া, লাল্টুসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর দাবি—এ মামলাটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকের সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং মারামারি থেকে বিরত থাকতে বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একজনকে বুকে জড়িয়ে ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির মুহূর্তে চেয়ারম্যান রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং সরাসরি কোনো হামলা বা পুলিশের গায়ে হাত তোলার দৃশ্য কোথাও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম একজন ‘পুলিশবান্ধব’ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নজির রয়েছে তার। তাই হঠাৎ করে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় তাকে আসামি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এদিকে মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও সরাসরি মারামারিতে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্টে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষও এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মামলাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম মিয়াসহ যাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও গ্রেপ্তার অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
তারা বলেন, “অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *