কৃষিমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন নিজ বাগানের সীডলেস আঙ্গুর
জীবননগর অফিস:-
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের কৃষি উদ্যোক্তা মো. রুহুল আমিন তার নিজস্ব খামারে উৎপাদিত দুই প্রজাতির সীডলেস (বীজবিহীন) আঙ্গুর কৃষিমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে তিনি নিজ বাগানে উৎপাদিত আঙ্গুর উপহার দেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ-কে।
এ সময় মন্ত্রী দেশে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, জলবায়ু উপযোগী উন্নত জাতের ফল চাষে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি রুহুল আমিনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল চাষ সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও নীতিগত সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন।
উদ্যোক্তা রুহুল আমিন জানান,তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরে তার প্রতিষ্ঠিত ‘রুহুল এগ্রো লিমিটেড’ ও ‘গ্রীণ প্লানেট এগ্রো’ খামারে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পরীক্ষামূলকভাবে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর চাষ করে আসছেন। দীর্ঘ গবেষণা,জাত নির্বাচন,মাটির উপযোগিতা যাচাই এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় আবহাওয়ায় সীডলেস আঙ্গুর উৎপাদনে সাফল্য অর্জন করেন। কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে আঙ্গুরের অধিকাংশ চাহিদা আমদানিনির্ভর। স্থানীয়ভাবে মানসম্মত আঙ্গুর উৎপাদন সম্ভব হলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে।
মো. রুহুল আমিন বলেন,“সঠিক প্রযুক্তি, পরামর্শ ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশেই বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের আঙ্গুর চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চুয়াডাঙ্গার অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ বিবেচনায় উচ্চমূল্যের ফল চাষে এ অঞ্চল সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। উদ্যোক্তাদের এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।