গাইড বাণিজ্য নিয়ে তোলপাড়: অর্ধকোটি টাকার চুক্তি, ইউএনও’র কড়া হুঁশিয়ারি

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ গাইড বই বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির দুই নেতা একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হলেও বাকি অর্থ নগদে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক আমিনুস সোবাহান রাজা ও সদস্য সচিব আহসান হাবিব উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনসের গাইড বই চালুর জন্য এই চুক্তি করেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সমিতির রূপালী ব্যাংকের হিসাবে ২৪ লাখ টাকা জমা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাকি অর্থ সরাসরি নগদে গ্রহণ করা হয়েছে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিস গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও ৪২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রতিবেদন জমা হয়নি। তদন্তে বিলম্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলার প্রায় সব স্কুলেই শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক চাপে পড়ছে। কালীগঞ্জের অভিভাবক সেলিম হোসেন বলেন, “শিক্ষকরা আমাদের সন্তানদের গাইড কিনতে চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু এত দামী বই কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।”

অন্যদিকে, শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব আহসান হাবিব এ বিষয়ে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে আহ্বায়ক আমিনুস সোবাহান রাজার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের এক বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, মার্কেটিংয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপঢৌকন দেওয়া হয়ে থাকে, যা তাদের মতে প্রচলিত প্রক্রিয়া।

ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করা এবং এর বিনিময়ে অর্থ লেনদেন সম্পূর্ণ বেআইনি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ শেষে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, “টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গাইড বই চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।” তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং দ্রুত বিষয়টি সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *