আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে চমকে উঠলাম। স্কুল ছুটি, গেটে তালা… ভেতরে আটকা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী! এ যেন বিখ্যাত ‘ছুটির ঘন্টা‘ নামক বাংলা সিনেম।
এ ঘটনা মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে, তা নিছক একটি ভুল নয়—এটা দায়িত্বহীনতার স্পষ্ট উদাহরণ।
বিকেল ৪টায় ছুটির ঘণ্টা বাজে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবাই বের হয়ে যান। নিয়মমতো গেটে তালাও পড়ে। কিন্তু কেউ খেয়ালই করেননি—স্কুলের ওয়াশরুমে তখনও আটকা পড়ে আছে তৃতীয় শ্রেণির ছোট্ট ছাত্রী সাদিয়া।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে যখন সে ফাঁকা স্কুল আর তালাবদ্ধ গেট দেখে, তখন আতঙ্কে কেঁদে ওঠে। সেই কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে না এলে কী হতে পারত—ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়।
উদ্ধার করতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। কারণ, শুধু মূল ফটক নয়—ভবনের ভেতরের কলাপসিবল দরজাও ছিল বন্ধ। শেষ পর্যন্ত এক শিক্ষিকাকে ডেকে এনে তালা খোলা হয়।
এদিকে, মেয়েটি সময়মতো বাড়ি না ফেরায় তার বাবা মনিরুল ইসলাম দিশেহারা হয়ে স্কুলে এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। একজন অভিভাবকের সেই উৎকণ্ঠা খুব সহজেই বোঝা যায়।
রাত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, শিশুটি সুস্থ আছে—এটাই স্বস্তি। তবে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
প্রশ্নটা খুব সরল—একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি দেওয়ার আগে কি নিশ্চিত করা হয় না যে সব শিক্ষার্থী বের হয়েছে? এটা কেবল একটি ‘ঘটনা’ না, এটা একটি সতর্কবার্তা।
আজ সাদিয়া বেঁচে গেছে। কাল যদি আরেকজন এমন পরিস্থিতিতে পড়ে—তখন কি আমরা একইভাবে ভাগ্যের ওপর ভরসা রাখব?