আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
আজ সেই দিন, যেদিন মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের আকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র চিরতরে নিভে গিয়েছিল। জনমানুষের নেতা, উন্নয়নের রূপকার এবং ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম মাস্টারের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এক দশকেও তাঁর শূন্যতা পূরণ হয়নি এই জনপদে; বরং সময়ের সাথে তাঁর প্রয়োজনীয়তা যেন আরও প্রকট হয়ে ধরা দিচ্ছে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে।
শহীদুল ইসলাম মাস্টার কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না; তিনি ছিলেন গণমানুষের কণ্ঠস্বর। শিক্ষকতা পেশা থেকে উঠে আসা এই সাদা মনের মানুষটি রাজনীতির কঠিন ময়দানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সততা ও কর্মনিষ্ঠার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে। ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তাঁর অবদান মহেশপুর-কোটচাঁদপুরের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
একটা সময় মহেশপুর কোটচাঁদপুর ছিল উন্নয়নের মানচিত্রে পিছিয়ে পড়া এক অবহেলিত জনপদ। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে শহীদুল ইসলাম মাস্টার যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন, তা আজ দৃশ্যমান। তাঁর হাত ধরেই: প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঁচা রাস্তাগুলো পাকা সড়কে রূপান্তরিত হয়েছে।
অসংখ্য স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার আধুনিকায়ন হয়েছে। কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে কৃষকদের অধিকার রক্ষায় তিনি পালন করেছেন অগ্রণী ভূমিকা।
গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তিনি ছিলেন আপোষহীন।
”শহীদুল মাস্টার কোনো নির্দিষ্ট দলের বা গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের বন্ধু। তাঁর রাজনীতি ছিল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর।” স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ নাগরিক।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল প্রশ্নাতীত। রণক্ষেত্রে যেমন তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করেছেন, তেমনি সংসদ সদস্য হিসেবেও লড়েছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল সাধারণ মানুষের জন্য উৎসর্গকৃত। মানুষ মরণশীল, কিন্তু তাঁর কর্ম অমর। শহীদুল ইসলাম মাস্টার আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়ন কাজ এবং মানুষের ভালোবা’ সা তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে অনন্তকাল। মহেশপুর-কোটচাঁদপুরবাসী আজও গর্বের সাথে বলে-তিনি ছিলেন আমাদের উন্নয়নের আলোকবর্তিকা।”
আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।