জীবননগরে ঝরে পড়ছে লিুচ ও আমের গুটি,দুশ্চিন্তায় চাষিরা

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় চলমান তীব্র তাপদহ,বৃষ্টির দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং হপার পোকার আক্রমণে ব্যাপক হারে ঝরে পড়ছে লিচু ও আমের গুটি। এতে সম্ভাবনাময় মওসুমেও উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।তাদের শঙ্কা এবার লাভ তো দুরের কথা বাগান থেকে খরচ তোলায় দায় হয়ে যাবে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,কয়েক সপ্তাহ আগেও লিচু ও  আম গাছে প্রচুর মুকুল ও গুটি দেখে বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন চাষিরা। তবে ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধি,শুষ্ক আবহাওয়া এবং মাঝেমধ্যে দমকা হাওয়ার কারণে সেই গুটিগুলো এখন দ্রুত ঝরে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই গাছের নিচে পড়ে থাকা গুটিতে ভরে যাচ্ছে বাগান।

স্থানীয় চাষিরা জানান,শুধু প্রাকৃতিক কারণই নয়,হপার পোকার আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ ও সেচ দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।

দৌলৎগঞ্জের আম চাষি মুন্সী আব্দুস সবুর বলেন,আমাদের চলতি মওসুমে ৬ একর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে আম বাগান রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। কিন্তু কাল বৈশাখীর ঝড়ের পর থেকেই গুটি ঝরতে শুরু করেছে। অন্যদিকে ভ্যাঁপসা গরম এবং  পোকার আক্রমণে প্রতিদিনই আম ঝরে পড়ে যাচ্ছে। নিয়মিত সেচ ও স্প্রে করলেও তা কোন কাজে আসছে।

মাধবখালী গ্রামের এসএমই কৃষক রাজেদুল ইসলাম ও ধোপাখালী গ্রামের রিপন হোসেন বলেন,হঠাৎ করেই এবার লিচু ও আম বাগানে গুটি ঝরে পড়ে শুরু হয়েছে এবং তা দিন দিন অস্বাভাবিক মাত্রা দেখা যাচ্ছে। গাছের ডালে সামান্য ঝড় কিংবা  হাত লাগলেই গুটি ঝরে পড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা খুব চিন্তার মাঝে আছি। কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন কাজ হচ্ছে না। তবে বৃষ্টি হলে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতো বলে মনে করছি।এতে শুধু চাষিরাই নয়,ক্ষতির মুখে পড়েছেন আম ব্যবসায়ীরাও।

 জীবননগর বাজারের বিশিষ্ট আম ব্যবসায়ী শামীম সরোয়ার বলেন,এমন পরিস্থিতিতে যে সব ব্যবসায়ীরা চুক্তি ভিত্তিক বাগান ক্রয় করেছেন,তারা চিন্তার মধ্যে আছেন।প্রতিদিন গাছের নিচে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। শুধু আম নয়,লিচু বাগানেও একই অবস্থা। এভাবে চলতে থাকলে এবার আমের ফলন বিপর্যয় হওয়ার আশঙ্কায় আছেন চাষিরা,আর ফলন বিপর্যয় হলে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়নে চলতি মওসুমে বাণিজ্যিক ও ক্ষুদ্র পরিসরে গড়ে ওঠা ৬১২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির আমের চাষ হয়েছে। তাদের মধ্যে আম্রপালি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, কাঠিমন ও মল্লিকা অন্যতম। উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে সবচেয়ে বেশী  আম চাষ হয় আম্রপালি জাতের।

উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন জানান,তীব্র তাপপ্রবাহ,মাটির আর্দ্রতার ঘাটতি এবং হপার পোকার আক্রমণ—এই তিনটি প্রধান কারণে আমের গুটি ঝরে পড়ে। তারা চাষিদের নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ,সুষম সেচ প্রদান,সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার এবং গাছের গোড়ায় মালচিং করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এছাড়া আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সময়মতো বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবননগরের আমচাষিরা প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এখন সবার একটাই প্রত্যাশা—শিগগিরই বৃষ্টি হবে,আর সেই বৃষ্টিই হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে তাদের কষ্টের ফসল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *