কোটচাঁদপুরে চরম অমানবিকতা বাছুরসহ গাভী জবাই মাংস ব্যবসায়ীর দণ্ড ও মাংস বিনষ্ট

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি –
​জনস্বাস্থ্যের হুমকি ও পশুর সুরক্ষা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাছুরসহ গাভী জবাইয়ের দায়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এক মাংস ব্যবসায়ীকে কঠোর শাস্তির আওতায় এনেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে উপজেলার সাফদারপুর বাজারে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাফদারপুর বাজারে আকস্মিক হানা দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা। অভিযানে দেখা যায়, মো. ফজলুর রহমান নামে এক মাংস ব্যবসায়ী আইন ও মানবিকতা বিসর্জন দিয়ে পেটে ভ্রুণসহ (বাছুর) একটি পশু জবাই করেছেন। শুধু তাই নয়, জব্দকৃত মাংসের মান নিয়েও গুরুতর অসংগতি খুঁজে পায় প্রশাসন।

​তৎক্ষণাৎ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১’-এর ২৪ ধারায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে নিম্নোক্ত সাজা প্রদান করা হয় ​নগদ জরিমানা: ১৫ হাজার টাকা। জব্দকৃত প্রায় ২৫ কেজি অস্বাস্থ্যকর ও অবৈধ মাংস জননিরাপত্তার স্বার্থে জনসম্মুখে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়।​”জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা আপসহীন। বাছুরসহ পশু জবাই করা কেবল আইনত দণ্ডনীয় অপরাধই নয়, বরং চরম অমানবিকতা। ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে আমাদের এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”মো. সোহেল রানা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

​অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাফদারপুর বাজারে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে একটি অসাধু সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসুস্থ ও নিয়মবহির্ভূত পশু জবাই করে আসছিল। এই কঠোর অভিযানের ফলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।
পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, কেউ বাছুরসহ গাভী জবাই বা অস্বাস্থ্যকর মাংস বিক্রি করলে অনূর্ধ্ব ১ বছর কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। কোটচাঁদপুর প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানে বর্তমানে অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *