নিজস্ব প্রতিবেদক,ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবন, কিশোর ছেলে-মেয়ে ও সাজানো সংসার ফেলে এক রাজমিস্ত্রির সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। যাওয়ার সময় তিনি স্বামীর কষ্টার্জিত নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও সঙ্গে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী কৃষক সোহাগ হোসেন জানান, স্ত্রী আফরোজা খাতুনের সঙ্গে তার ১৮ বছরের সংসার। তাদের ১৭ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১৩ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। এলাকায় তারা একটি শান্ত ও সুখী পরিবার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত কিছুদিন ধরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রি যুবকের সঙ্গে আফরোজা খাতুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়ভাবে পারিবারিক সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
সোহাগ হোসেনের দাবি, কয়েকদিন আগে সুযোগ বুঝে স্ত্রী আলমারিতে রাখা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর আত্মীয়স্বজন, সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান ও শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সোহাগ হোসেন বলেন, “১৮ বছরের বিশ্বাস ও ভালোবাসা মুহূর্তেই ভেঙে গেল। আমি তাকে আর সংসারে ফিরিয়ে নিতে চাই না। তবে আমার কষ্টের উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ ঘটনায় তাদের দুই সন্তান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। মায়ের হঠাৎ চলে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার অনেক পরিবারে অশান্তি ও ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।