আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ঝিনাইদহ পৌরসভার ক্যাশিয়ার মোঃ জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং কর্মচারীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পৌরসভার সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও জহুরুল ইসলাম ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চনপুর এলাকায় বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া নিজের ও বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও ডিপিএস সঞ্চয়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তের আশঙ্কায় বাড়িটি এখনো রেজিস্ট্রি করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর নাম ব্যবহার করে এবং তাকে বিভ্রান্ত করে সাধারণ কর্মচারীদের আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) তহবিল থেকে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে ব্যক্তিগত ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন জহুরুল ইসলাম। এছাড়া পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ও দোকান ভাড়ার প্রায় ১০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ সরকারি তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
পৌরসভার কর্মচারীরা আরও অভিযোগ করেন, অধিকাংশ কর্মচারীর বেতনের চেক বই নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে তাদের নগদ বেতন নিতে বাধ্য করা হতো। পাশাপাশি তার মালিকানাধীন দোকান থেকে বাজার করতে বাধ্য করা এবং বেতন থেকে জোরপূর্বক বকেয়া টাকা কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং একাধিকবার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের পতনের পর নিজের অনিয়ম ও দুর্নীতি আড়াল করতে জহুরুল ইসলাম আচরণে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। অফিসের গোপনীয় তথ্য বাইরে ফাঁস করা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কল রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে অফিসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছেন, জহুরুল ইসলাম নিজেকে পৌরসভার “দ্বিতীয় মেয়র” হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং তার মতের বিরুদ্ধে গেলেই কর্মচারীদের হেনস্তার শিকার হতে হতো।
অভিযুক্ত এই কর্মচারীর অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, আর্থিক অনিয়মের তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য দুদকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগের অনুলিপি খুলনার স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।