জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে অনলাইন জুয়ার আসক্তি। দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী,দিনমজুর, ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন এই জুয়ার ফাঁদে। এতে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে,অন্যদিকে পরিবার ও সমাজে বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও সাব-এজেন্ট চক্র। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই চলছে টাকা লেনদেন ও টপআপ কার্যক্রম। ফেসবুক পেজ ও পাবলিক গ্রুপে “অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার” প্রলোভন দেখিয়ে চালানো হচ্ছে আকর্ষণীয় প্রচারণা। এমনকি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগো ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে।
এসব প্রলোভনে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন,“অনলাইন জুয়ার চক্রগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা সহজেই এসবের ফাঁদে পা দিচ্ছে। পরিবার ও সমাজকে এখনই সচেতন হতে হবে।”তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও মোবাইল ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
অনলাইন জুয়ায় আসক্ত তারিক হাসান নামে এক যুবক জানান,“প্রথমে বন্ধুর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। শুরুতে কিছু লাভ হওয়ায় আগ্রহ বেড়ে যায়। পরে ধীরে ধীরে বড় অঙ্কের টাকা হারাতে থাকি। গত এক বছরে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব।”
আরেক যুবক রবিউল ইসলাম বলেন,“অনলাইন জুয়া একটা ভয়ংকর ফাঁদ। শুরুতে লাভ দেখিয়ে আসক্ত করা হয়। পরে আমি পুরোপুরি জড়িয়ে পড়ি। গত দুই বছরে প্রায় ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় মোবাইলে ব্যস্ত থাকায় তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা অনলাইন জুয়া বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, আইনি সহায়তা এবং যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন,“অনলাইন জুয়া সমাজের জন্য ভয়াবহ একটি ফাঁদ। এতে পড়ে অনেক তরুণ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। যারা এ ধরনের জুয়ার সঙ্গে জড়িত কিংবা মানুষকে উৎসাহিত করছে, তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”